এস হে অপারের কান্ডারি

এস হে অপারের কান্ডারি ।
পড়েছি অকূল পাথারে
দাও এসে চরণ তরী ।।
প্রাপ্ত পথ ভুলে হে এবার
ভবরোগে জ্বলবো কত আর ।।
তুমি নিজগুণে শ্রীচরণ দাও
তবে কূল পেতে পারি ।
ও আমি তবে কূল পেতে পারি ।
ছিলাম কোথা এলাম হেথা
আবার আমি যাই যেন কোথা ।।
তুমি মনোরথের সারথি হয়ে ।।
স্বদেশে নাও মনেরি ।।
পতিত পাবন নাম তোমার গো সাঁই
পাপী তাপী তাইতে দেয় দোহাই ।।
ফকির লালন বলে তোমা বিনে
ভরসা কারে করি ।।

পাবে সামান্যে কি তার দেখা!

পাবে সামান্যে কি তার দেখা!
(ওরে) বেদে নাই যার রূপ-রেখা।।
কেউ বলে, পরম মিষ্টি কারো না হইল দৃষ্টি ।।
বরাতে দুনিয়া সৃষ্টি ।।
তাই নিয়ে লেখাজোখা।
(ওরে) তাই নিয়ে লেখাজোখা।
নিরাকার ব্রহ্ম হয় সে সদাই ফেরে অচিন দেশে ।।
দোসর তাই নাইকো পাশে ।।
ফেরে সে একা একা।
(ওরে) ফেরে সে একা একা।
কিঞ্চিৎ ধ্যানে মহাদেব, সে তুলনা কি আর দেবো ।।
লালন বলে, গুরু ভাবো
যাবে রে মনের ধোঁকা।
(ওরে) যাবে রে মনের ধোঁকা।।

কী সন্ধানে যাই সেখানে

কী সন্ধানে যাই সেখানে
মনের মানুষ যেখানে ।
আঁধার ঘরে জ্বলছে বাতি
দিবারাতি নাই সেখানে ।।
যেতে পথে কামনদীতে
পাড়ি দিতে ত্রিবিনে ।।
কত ধনীর ভারা যাচ্ছে মারা ।।
পইড়ে নদীর তোড় তুফানে ।
দেখো পইড়ে নদীর তোড় তুফানে ।
রসিক যাঁরা চতুর তাঁরা
তাঁরাই নদীর ধারা চেনে ।।
উজান তরী যাচ্ছে বেয়ে ।।
তাঁরাই স্বরূপ সাধন জানে ।
ওরে তাঁরাই স্বরূপ সাধন জানে ।।
লালন বলে ম’লাম জ্বইলে
ম’লাম আমি নিশিদিনে ।।
আমি মনি হারা ফনির মতন ।।
হারা হলেম দিন নিধনে
আমি হারা হলেম দিন নিধনে ।
আঁধার ঘরে জ্বলছে বাতি
দিবারাতি নাই সেখানে ।।
দেখো দিবারাতি নাই সেখানে ।।
মনের মানুষ যেখানে ।
কী সন্ধানে যাই সেখানে
মনের মানুষ যেখানে ।

আপন ঘরের খবর লে না

অনায়াসে দেখতে পাবি
কোনখানে সাঁইর বারামখানা।
আপন ঘরের খবর লে না।
অনায়াসে দেখতে পাবি
কোনখানে সাঁইর বারামখানা।।
আমি
কোমল ফোটা কারে বলি
কোন মোকাম তার কোথায় গলি ।।
সেইখানে পইড়ে ফুলি
মধু খায় সে অলি জনা।।
সুখ্য জ্ঞান যার ঐক্য মুখ্য
সাধক এর উপলক্ষ ।।
অপরূপ তার বৃক্ষ
দেখলে চক্ষের পাপ থাকে না।।
শুষ্ক নদীর শুষ্ক সরোবর
তিলে তিলে হয় গো সাঁতার ।।
লালন কয়, কীর্তি-কর্মার
কি কারখানা।।

যেখানে সাঁইর বারামখানা

শুনিলে প্রাণ চমকে উঠে
দেখতে যেমন ভুজঙ্গনা ।।
যেখানে সাঁইর বারামখানা
যা ছুঁইলে প্রাণে মরি
এ জগতে তাইতে তরী
বুঝেও তা বুঝতে নারী
কীর্তিকর্মার কি কারখানা ।
আত্নতত্ত্ব যে জেনেছে
দিব্যজ্ঞানী সেই হয়েছে
কুবৃক্ষে সুফল পেয়েছে
আমার মনের ঘোর গেল না ।।
যে ধনে উৎপত্তি প্রাণধন
সে ধনের হল না যতন
অকালের ফল পাকায় লালন
দেখে শুনে জ্ঞান হল না ।।

সময় গেলে সাধন হবে না

সময় গেলে সাধন হবে না
দিন থাকতে দ্বীনের সাধন কেন জানলে না
তুমি কেন জানলে না
সময় গেলে সাধন হবে না
জানো না মন খালে বিলে
থাকে না মিল জল শুকালে ।।
কি হবে আর বাঁধা দিলে
মোহনা শুকনা থাকে, মোহনা শুকনা থাকে,
সময় গেলে সাধন হবে না
সময় গেলে সাধন হবে না
অসময়ে কৃষি কইরে মিছা মিছি খেইটে মরে
গাছ যদি হয় বীজের জোরে ফল ধরে না
তাতে ফল ধরে না,
সময় গেলে সাধন হবে না ।।
অমাবস্যায় পূর্নিমা হয়
মহা জোগ সে দিনের উদয় ।।
লালোন বলে তাহার সময়
দনডোমো রয় না, দনডোমো রয় না,দনডোমো রয় না
সময় গেলে সাধন হবে না
দিন থাকতে দ্বীনের সাধন কেন জানলে না
তুমি কেন জানলে না
সময় গেলে সাধোন হবে না