ক্ষম ক্ষম অপরাধ

বারে বার ডাকি তোমায়
ক্ষম ক্ষম অপরাধ……!
বড় সঙ্কটে পড়িয়া এবার
ওগো দয়াল
বারে বার ডাকি তোমায়
ক্ষম ক্ষম অপরাধ……!
দাসের পানে একবার চাও হে দয়াময়
ক্ষম অপরাধ।
তোমারি ক্ষমতায় আমি
যা ইচ্ছে তাই কর তুমি ।।
রাখ মার সে নাম নামি ।।
ওগো দয়াল
তোমারি এই জগৎময়
পাপী অধম তরাইতে সাঁই
পতিত পাবন নাম শুনতে পাই ।।
সত্য মিথ্যা জানবো হেথায় ।।
ওগো দয়াল তরাইতে আজ আমায়
কসুর পেয়ে মার যারে
আবার দয়া হয় গো তারে ।।
লালন বলে এ সংসারে
অগো দয়াল
আমি কি তোমার কেহই নই

আমার হয় না রে সে মনের মত মন

আমার হয় না রে সে মনের মত মন ।।
কিসে জানবো সেই রাগের কারণ
আমি জানবো কি সে রাগের কারণ
আমার হয় না রে সে মনের মত মন ।।
পড়ে রিপু ইন্দ্রিয় ভোলে
মন বেড়ায় রে ডালে আলে ।।
দুই মনে এক মন হইলে ।।
এড়াই শমন ।।
হয় না রে সে মনের মত মন ।
আমার হয় না রে সে মনের মত মন ।
রসিক ভক্ত যারা মনে মন মিশালো তারা ।।
শাসন করে তিনটি ধারা ।।
পেল রতন
তারা পেল রতন
হয় না রে সে মনের মত মন ।
আমার হয় না রে সে মনের মত মন ।
কবে হবে নাগিনী বস সাধবো কবে অমৃত-রস ।।
দরবেশ সিরাজ সাঁই কয়, বিষে বিনাশ ।।
হলি লালন ।।
হয় না রে সে মনের মত মন ।
আমার হয় না রে সে মনের মত মন ।
কিসে জানবো সেই রাগের কারণ
ও কিসে জানবো সেই রাগের কারণ
হয় না রে সে মনের মত মন ।
আমার হয় না রে সে মনের মত মন ।

দিবানিশি থাকরে সব বা হুঁশিয়ারী

দিবানিশি থেক সব রে মন বা-হুঁশিয়ারী
রাছুল বলে ইয়ে দুনিয়া ।।
মিছে ঝাকমারী।
দিবানিশি থেক রে ও মন বা-হুঁশিয়ারী
দিবানিশি থেক রে থেক ও মন বা-হুঁশিয়ারী
পড়িও আউজবিল্লা
দূরে যাবে নানতুল্লা ।।
মুর্শিদরূপ করিলে হিল্লা ।।
শঙ্কা যায় তারই।।
দিবানিশি থেক রে সাধের মন বা-হুঁশিয়ারী
দিবানিশি থেক রে থেক ও মন সব বা-হুঁশিয়ারী
যাহের বাতেন ছপ ছফিনায়
পুছি দ্বার ভেদ দিলেম সিনায় ।।
অমনি মতন তোমার সবায়
বল সবারই।।
দিবানিশি থেক রে থেক সবে বা-হুঁশিয়ারী
অগত অভক্তজনা
তারে গুপ্ত ভেদ বইল না
বলিলে সে মানিবে না ।।
করবে অহংকারী।।
দিবানিশি থেক রে সবে মন সব বা-হুঁশিয়ারী

আল্লাহ্ কে বোঝে তোমার অপার লীলা

আল্লাহ্ কে বোঝে তোমার অপার লীলা
কে বোঝে তোমার অপার লীলে।
তুমি আপনি আল্লাহ
ডাকো আল্লাহ বলে।
নিরাকারের তরে তুমি নুরী
ছিলে ডিম্ব অবতরী।
সাকারে সৃজন গড়লে ত্রিভুবন
আকারে চমৎকার ভাব দেখালে।
নিরাকার নিগম ধ্বনি
তাও তো সত্য সবাই জানি।।
তুমি আগমের ফুল নিগমে রসুল
আদমের ধড়ে জান হইলে।
আত্ম তত্ত্ব জানে যাঁরা
শাঁইর নিগূঢ় লীলা দেখছে তাঁরা।।
নীড় নিরঞ্জন অকৈথ্য সাধন ।।
লালন খুঁজে বেড়ায় বনজঙ্গলে।

এস হে অপারের কান্ডারি

এস হে অপারের কান্ডারি ।
পড়েছি অকূল পাথারে
দাও এসে চরণ তরী ।।
প্রাপ্ত পথ ভুলে হে এবার
ভবরোগে জ্বলবো কত আর ।।
তুমি নিজগুণে শ্রীচরণ দাও
তবে কূল পেতে পারি ।
ও আমি তবে কূল পেতে পারি ।
ছিলাম কোথা এলাম হেথা
আবার আমি যাই যেন কোথা ।।
তুমি মনোরথের সারথি হয়ে ।।
স্বদেশে নাও মনেরি ।।
পতিত পাবন নাম তোমার গো সাঁই
পাপী তাপী তাইতে দেয় দোহাই ।।
ফকির লালন বলে তোমা বিনে
ভরসা কারে করি ।।

পাবে সামান্যে কি তার দেখা!

পাবে সামান্যে কি তার দেখা!
(ওরে) বেদে নাই যার রূপ-রেখা।।
কেউ বলে, পরম মিষ্টি কারো না হইল দৃষ্টি ।।
বরাতে দুনিয়া সৃষ্টি ।।
তাই নিয়ে লেখাজোখা।
(ওরে) তাই নিয়ে লেখাজোখা।
নিরাকার ব্রহ্ম হয় সে সদাই ফেরে অচিন দেশে ।।
দোসর তাই নাইকো পাশে ।।
ফেরে সে একা একা।
(ওরে) ফেরে সে একা একা।
কিঞ্চিৎ ধ্যানে মহাদেব, সে তুলনা কি আর দেবো ।।
লালন বলে, গুরু ভাবো
যাবে রে মনের ধোঁকা।
(ওরে) যাবে রে মনের ধোঁকা।।