হারানো হিয়ার নিকুঞ্জ পথে |harano hoar nikunjo pothead lyrics

হারানো হিয়ার নিকুঞ্জ পথে
কুড়ায়ে ঝরা ফুল একেলা আমি
তুমি কেন হায় আসিলে হেথায়
সুখের স্বরগ হইতে নামি ।
চারিদিকে মোর উড়িছে কেবল
শুকানো পাতা মলীণ ফুলদ্বয়
বৃথাই সেথা হায় তব আঁখিজল
ছিটাও অবিরল দিবসযামী ।
এলে অবেলায় পথিক বেভুল
বিদিছে কাটা নাহি পাবে ফুল
কি দিয়ে বরণ করি ও চরণ
নিভিছে জীবন জীবনস্বামী ।

কতদিন দেখিনি তোমায |kotodin dekhini tomay lyrics

কতদিন দেখিনি তোমায়
তবু মনে পড়ে তব মুখখানি
স্মৃতির মুকুরে মম আজ
তবু ছায়া পড়ে রানী
কতদিন দেখিনি তোমায়
কত দিন তুমি নাই কাছে,
তবু হৃদয়ের তৃষা জেগে আছে
প্রিয় যবে দূরে চলে যায়
সে যে আরও প্রিয় হয় জানি
কতদিন দেখিনি তোমায়
তবু মনে পড়ে তব মুখখানি
হয়ত তোমার দেশে আজ
এসেছে মাধবী রাতি
তুমি জোছনায় জাগিছো নিশি
সাথে লয়ে নতুন সাথী
হেথা মোর দীপ নেভা রাতে
নিদ নাহি দুটি আঁখি পাতে
প্রেম সে যে মরিচীকা হায়
এ জীবনে এই শুধু মানি
কতদিন দেখিনি তোমায়
তবু মনে পড়ে তব মুখখানি
স্মৃতির মুকুরে মম আজ
তবু ছায়া পড়ে রানী
কতদিন দেখিনি তোমায…

শুক্‌নো পাতার নুপুর পায়ে

শুক্‌নো পাতার নুপুর পায়ে
নাচিছে ঘূর্ণী বায়।
জল-তরঙ্গে ঝিল্‌মিল্‌ ঝিল্‌মিল্‌
ঢেউ তুলে সে যায়।।
দীঘির বুকে শতদল দলি’,
ঝরায়ে বকুল চাঁপার কলি,
চঞ্চল ঝর্‌ণার জল ছলছলি,
মাঠের পথে সে ধায়।।
জল-তরঙ্গে ঝিল্‌মিল্‌ ঝিল্‌মিল্‌
ঢেউ তুলে সে যায়।।
শুক্‌নো পাতার নুপুর পায়ে
নাচিছে ঘূর্ণী বায়।
জল-তরঙ্গে ঝিল্‌মিল্‌ ঝিল্‌মিল্‌
ঢেউ তুলে সে যায়।।
বনফুল-আভরণ খুলিয়া ফেলিয়া,
আলুথালু এলোকেশ গগনে মেলিয়া ।।
পাগলিনী নেচে যায় হেলিয়া দুলিয়া
ধূলি-ধূসর কায়।।
জল-তরঙ্গে ঝিল্‌মিল্‌ ঝিল্‌মিল্‌
ঢেউ তুলে সে যায়।।
ইরানী বালিকা যেন মরু-চারিণী
পল্লীর প্রান্তর-বন মনোহারিণী ।।
ছুটে আসে সহসা গৈরিক-বরণী
বালুকার উড়নী গায়।।

খোদার প্রেমের শরাব পিয়ে বেহুঁশ হয়ে রই পড়ে

খোদার প্রেমের শরাব পিয়ে বেহুঁশ হয়ে রই পড়ে
ছেড়ে মসজিদ আমার মুর্শিদ এল যে এই পথ ধরে।।
দুনিয়াদারীর শেষে আমার নামাজ রোজার বদলাতে
চাই নে বেহেশত খোদার কাছে।।
নিত্য মোনাজার করে।।
খোদার প্রেমের শরাব পিয়ে
কায়েস যেমন লায়লী লাগি লভিল মজনু খেতাব,
যেমন ফরহাদ শিরীর প্রেমে হলো দিওয়ানা বেতাব।।
বে-খুদীতে মশগুল আমি ।।
তেমনি মোর খোদার তরে।।
হায়…
খোদার প্রেমের শরাব পিয়ে বেহুঁশ হয়ে রই পড়ে
ছেড়ে মসজিদ আমার মুর্শিদ এল যে এই পথ ধরে।।
পুড়ে মরার ভয় না রাখে, পতঙ্গ আগুনে ধায়,
সিন্ধুতে মেটে না তৃষ্ণা চাতক বারি বিন্দু চায়,
চকোর চাহে চাঁদের সুধা, চাঁদ সে আসমানে কোথায়
সুরুয থাকে কোন্‌ সুদূরে সূর্যমুখী তারেই চায়,
তেমনি আমি চাহি খোদায়, চাহিনা হিসাব ক’রে।।

এই রাঙামাটির পথে লো

এই রাঙামাটির পথে লো
মাদল বাজে বাজে বাঁশের বাঁশি
ও বাঁশি বাজে বুকের মাঝে লো
মন লাগে না কাজে লো
রইতে নারি ঘরে আমার
প্রাণ হলো উদাসী লো
মাদলীয়ার তালে তালে
অঙ্গ ওঠে দুলে লো
দোল লাগে শাল পিয়াল বনে
নতুন খোপার ফুলে লো
মহুয়া বনে লুটিয়ে পরে
মাতাল চাঁদের হাসি লো
চোখে ভালো লাগে যাকে
তারে দেখবো পথের বাঁকে
তার চাচড় কেশে পড়িয়ে দেবো
ঝুমকো জবার ফুল লো
তার গলার মালার কুসুম কেড়ে
পড়বো কানের দুল
তার নাচের তালের ইশারাতে
বলবো ভালোবাসি লো

বসন্ত মুখর আজি

বসন্ত মুখর আজি
দক্ষিণ সমীরণে মর্মর গুঞ্জনে
বনে বনে বিহ্বল বাণী ওঠে বাজি’।।
অকারণ ভাষা তা’র ঝর ঝর ঝরে
মুহু মুহু কুহু কুহু পিয়া পিয়া স্বরে,
পলাশ বকুলে অশোক শিমুলে
সাজানো তাহার কল-কথার সাজি।।
দোয়েল, মধুপ বন-কপোত-কূজনে
ঘুম ভেঙে দেয় ভোরে বাসর শয়নে।
মৌনী আকাশ সেই বাণী-বিলাসে
অস্ত-চাঁদের মুখে মৃদু মৃদু হাসে।
বিরহ শীর্ণা গিরি-ঝরণার তীরে
পাহাড়ী বেণু হাতে ফেরে সুর ভাঁজি।।